মুক্তিযুদ্ধে বরিশাল এলাকায় বামপন্থীদের ভূমিকা


ধারাবাহিক: প্রথম অংশ


ইকবাল হোসেন ফোরকান



আওয়ামী লীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দান করলেও সেই যুদ্ধে বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে তাদের সেই ভূমিকাকে অস্বীকার করার একটি অশুভ তৎপরতা দেখা যায়। বিশেষ করে চীনপন্থী বামদের বিরুদ্ধে অজ্ঞতাপ্রসূত প্রচারণা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যদিও এক্ষেত্রে বামপন্থীদের দায়ও রয়েছে। মোহাম্মদ তোয়াহার ‘কৃষক বিপ্লব দ্বারা যারা পরিচালিত হয়েছিলেন তাদের একটি অংশ খুলনা-যশোর অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে অসম সাহসী লড়াই করেছিলেন। এরা মুজিবনগর সরকারের প্রতি অনুগত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কোনোরকম সংঘাতে না জড়িয়ে নোয়াখালীর চর এলাকায় মুক্ত অঞ্চল গঠন করে ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে জমি বিতরণ করেছিল। কিন্তু একপর্যায়ে মুজিবনগর সরকারের প্রতি অনুগত মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কোনো অংশের আক্রমণাত্মক তৎপরতায় কোণঠাসা হয়ে মোহাম্মদ তোয়াহার অনুগত বামপন্থীরা মুক্তিসংগ্রামে কাংক্ষিত ভূমিকা পালনে অপারগ হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ‘দুই কুকুরে কামড়া কামড়ির তত্ত্ব দিলেও আবদুল হক ও তার অনুসারী বামপন্থীরা একাত্তরের জুন মাসের দিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান নেয় এবং স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অপরদিকে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান নেতা মেনে নিয়ে কাজী জাফর আহমেদের নেতৃত্বে ১৯৬৭ সাল থেকে ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করে একদল চীনপন্থী বিপ্লবী রাজনীতিবিদ। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা দেশে আসার পূর্ব পর্যন্ত এরাই ছিল রণাঙ্গনের মূল চালিকাশক্তি। এদের পাশাপাশি সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে একদল বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা তুমুল লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় পর্যায়ের বামপন্থী নেতাদের ভূমিকা যেমন উহ্য রাখার প্রবণতা রয়েছে তেমনি মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকা অনালোচিত রয়ে যায়। এই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর বরিশাল জেলায় বামপন্থীদের ভূমিকার একটি সংক্ষিপ্ত দৃশ্যপট তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকের টাকা নিয়ে নেয়ার অসর্মথিত অভিযোগ থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সমপাদক ও জাতীয় পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনজুর। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দলমতের উর্ধ্বে ওঠে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে বরিশালের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস লেখা অসম্ভব। তিনি একাত্তরের ২৫মার্চের রাতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা হোসেন সেন্টুর মাধ্যমে তৎকালীন বরিশাল জেলা ভাসানী ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন ফোরকানকে নিজ বাসায় ডেকে এনে আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহবান জানান। স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সকলের সাথে ঐক্য স্থাপন করার বামপন্থীদের পূর্ব সিদ্ধান্ত থাকায় নুরুল ইসলাম মনজুরের প্রস্তাবে ইকবাল হোসেন ফোরকান তাৎক্ষণিক সম্মতি প্রকাশ করেন। এরপর গভীর রাতে সদর রোডের ভাসানী ন্যাপ কার্যালয়ে কেরামত আলী সরদার, সামসুদ্দিন মানিক, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহ আলম খান, ইকবাল হোসেন ফোরকানসহ ভাসানী ন্যাপ ও ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি’ এবং বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।

২৬ মার্চ সকালে পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনে বরিশাল শহরে অবস্থানরত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যসহ সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও জেলা প্রশাসনের সকল বিভাগের প্রধানরা সভা করেন। সেই সভায় বামপন্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বরিশাল জেলা ভাসানী ন্যাপের সভাপতি এনআইখান, সাংগঠনিক সমপাদক ইকবাল হোসেন ফোরকান, জেলা কমিটির সদস্য সামসুদ্দিন মানিক ও ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।

২৬ মার্চ বিকেলে দোয়ারিকা ও শিকারপুর ফেরিঘাট পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত রাখতেও ওই পথ দিয়ে হানাদার বাহিনীর বরিশাল শহরে প্রবেশ প্রতিহত করার লক্ষ্যে ফোরকানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল প্রেরণ করা হয় এবং ২৫ মার্চ রাতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পুলিশ লাইনস্‌ থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র থেকে ১১টি থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল ও ১টি ব্যারেটা গান ফোরকানের হাতে তুলে দেন নুরুল ইসলাম মনজুর। সেই দলটি বামপন্থী ও অরাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। তারা রহমতপুর এয়ারপোর্টে ঘাটি স্থাপন করেন। ফোরকান ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের সেই দলে বামপন্থীদের মধ্যে ছিলেন, কেরামত আলী সরদার, মজিবর রহমান চাঁন, খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জব্বার, মোসলেম, ছুট্টু, শাজাহান মাস্তান, বাবু লাল, প্রমুখ। অন্যদিকে অরাজনৈতিক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শুক্কুর ব্যাপারী, সুলতান আলম মজনু, শাজাহান হাওলাদার, কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক, শচীন কর্মকার, মোস্তফা শাহাবুদ্দিন রেজা, রফিকুল ইসলাম নান্নু, বাহাদুর আনসারী, রফিকুল ইসলাম, জিয়াউর প্রমুখ।

২৭ মার্চ বিকেলে বাবুগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাহার দারোগা, আব্দুল ওহাব খান, আব্দুস সালাম ও জিয়াউল করিম বাদশাসহ বিপুল সংখ্যক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মুক্তিযোদ্ধাদের এই দলের সাথে একা্ততা প্রকাশ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখান। এর প্রেক্ষিতে বাবুগঞ্জ থানায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য কাঠামোগত রূপরেখা প্রণয়ন করে আতাহার দারোগা’কে উপদেষ্টা, ইকবাল হোসেন ফোরকানকে কমান্ডার, আব্দুল ওহাব খানকে ডেপুটি কমান্ডার এবং সুবেদার মো. আলীকে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে নুরুল ইসলাম মনজুর এই দলের কার্যক্রম গতিশীল করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে একটি ভেসপা মোটরসাইকেল ও সাদা রঙের একটি উইলি জিপ গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের এই ক্যাম্পে এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি কৌতুক উদ্দীপক ঘটনা ঘটেছিল। বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা মোসলেমের টাকা চুরি করে ধরা পড়ে যান শচীন কর্মকার। আবদুল ওহাব খানের নেতৃত্বে এই ঘটনার বিচারের উদ্যোগ নেয়া হলে শচীন কর্মকার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সরাসরি ভারতে চলে যান। সেখানে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ক্যাপ্টেন শচীন কর্মকার নামে পরিচিতি লাভ করেন।
যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণে মতদ্বৈততার কারণে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বরিশাল শহরের ল’ কলেজে বামপন্থীদের আলাদা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। তা সত্ত্বেও এই ক্যাম্প প্রতিষ্ঠায় নুরুল ইসলাম মনজুর অর্থ ও খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে সহায়তা করেন। ল’ কলেজ ক্যাম্পেরও সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ইকবাল হোসেন ফোরকান। ১২ এপ্রিলের পর এয়ারপোর্ট ক্যাম্প থেকে অধিকাংশ বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা পর্যায়ক্রমে ল’ কলেজ ক্যাম্পে চলে আসলে হাবিলদার মজিদ এয়ারপোর্ট ক্যাম্পে প্রশিক্ষণসহ আনুসাঙ্গীক দায়িত্ব পালন করেন। বরিশালের অন্যান্য বামপন্থীরাও ল’ কলেজ ক্যাম্পে যোগদান করেন। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ল’ কলেজ ক্যাম্প কার্যকর ছিল। এই ক্যাম্প থেকে প্রায় দেড় শতাধিক বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের স্বল্পমেয়াদী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। তাছাড়া মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে চিনের বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী কেরামত আলী সরদারের নিজের করা ডিজাইনে শহরের রিফুজি কলোনি থেকে প্রচুর পরিমাণে হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় মজুদ ও বামপন্থীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এই ক্যাম্পের সাথে আরও যুক্ত ছিলেন, ভাসানী ন্যাপ সভাপতি এনআইখান, সহসভাপতি সুনীল গুপ্ত, সাধারণ সমপাদক এ্যাড. সিদ্দিক হোসেন, জেলা কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান চাঁন, সামসুদ্দিন মানিক, ভাষা সৈনিক আবুল হাশেম, ভাষা সৈনিক আব্দুল মোতালেব মাস্টার, খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, এ্যাড. শাহ আলম খান, এএইচএম সালেহ, বিএম কলেজের সাবেক ভি.পি. সিরাজুল ইসলাম রাজা মিয়া, আব্দুল জব্বার দুলাল, মহিউদ্দিন মধু, মজিবর রহমান বাদশা (নলছিটি), বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি শাহ আলম, আব্দুল জব্বার, মাহাবুবুল আলম লাটু (নলছিটি), শহিদুল ইসলাম (গলাচিপা) প্রমুখ।

এছাড়াও জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ল’ কলেজ ক্যাম্পে যোগদান করেন। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে খোন্দকার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধা বানারীপাড়ার বলহর ও খলিশাকোটায় ঘাটি স্থাপন করেন। শুদ্ধ ইতিহাস বিনির্মাণের স্বার্থে এখানে একটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করা দরকার। থানা মুসলিম লীগ সভাপতি ও পরবর্তীতে বানারীপাড়া শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান গনি মোক্তার-এর বাড়ি খলিশাকোটায় ছিল। কিন্তু তিনি কখনোই মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো রকম অসুবিধার সম্মুখীন করেন নি। উপরন্তু বলহার ক্যাম্পে কয়েকবার খাদ্য সহায়তা করেছিলেন। ১৮ এপ্রিল বরিশালের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান বাহিনী বিমান হামলা চালায়। সেদিনই এয়ারপোর্ট ক্যাম্পের অধিকাংশ অস্ত্রশস্ত্রসহ অবশিষ্ট সকল বামপন্থীরা ল’ কলেজ ক্যাম্পে চলে আসে।

সমসাময়িক সময়ে শহরের কাউনিয়া ফার্স্ট লেনে সিরাজ সিকদার-এর নেতৃত্বাধীন পূর্ব বাংলা শ্রমিক আন্দোলনের একটি যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন খোরশেদ আলম খসরু। ২৫ এপ্রিল বিকেলে কাগাশুরায়-পুরান পাড়ায় হেলিকপ্টার থেকে পাকিস্তানি প্যারাটুপার অবতরণ করে এবং একইদিনে সকালে পাকিস্তান বাহিনী জুনাহার-তালতলী এলাকায় গানবোটসহ হামলা চালায়। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রাস্তাঘাটে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে আত্মগোপনে চলে যায়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জিপ গাড়িতে ইকবাল হোসেন ফোরকান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মোস্তফা শাহাবুদ্দিন রেজা ও গাড়িচালক টেনু সর্দার ফকির বাড়ী, কাটপট্টিসহ শহরের বিভিন্ন রাস্তা থেকে সেসব পরিত্যক্ত অস্ত্র সংগ্রহ করেন। এছাড়াও কাটপট্টির খগেন সাহা’র দোকানের পিছনের অংশ থেকে তৎকালীন এমপিএ আমির হোসেন আমু ও ইউসুফ হোসেন কালু তাদের দুটি রিভলভার ও একটি ব্যারেটা গান দিয়েছিলেন। ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত বামপন্থীরা এভাবে প্রায় শতাধিক অস্ত্র সংগ্রহ করে। বামপন্থীদের সংগ্রহকৃত অস্ত্রের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল। তবে মে মাসের মাঝামাঝি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রভা–ারে দুইটি ভারতীয় স্টেনগান যুক্ত করেন।

আব্দুল ওহাব খান-এর সহায়তায় লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি থেকে সংগ্রহকৃত তিন নৌকা অস্ত্রগোলাবারুদসহ ইকবাল হোসেন ফোরকান ২৬ এপ্রিল রাতে বাহেরচরে রাশেদ খান মেননের পৈত্রিক ডাকবাংলোতে পৌছান। সেখানে মাটির নিচে অল্প কিছু অস্ত্র লুকিয়ে রেখে নৌকাগুলো ঝালকাঠির উত্তমপুর, উজিরপুরের করফাকর ও বানারীপাড়ার বলহরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মান্নান মৃধার তথ্যের ভিত্তিতে মে মাসের প্রথমদিকে ফোরকানের নেতৃত্বে বাম রাজনৈতিক কর্মী সৈয়দ সুলতান, বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট সৈয়দ কবির ও কৃষ্ণ কান্তসহ মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল বানারীপাড়া থানার ওসি নজরুল দারোগার গোপন আস্তানায় হামলা চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র সংগ্রহ করে।

লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা

Share With:

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Start typing and press Enter to search